প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 14, 2026 ইং
ইউরোপজুড়ে দাবদাহের তীব্র তাণ্ডব, চরম জনদুর্দশা

ইউরোপজুড়ে প্রখর সূর্য আর দাবদাহে এখন হাহাকার অবস্থা। মহাদেশজুড়ে নতুন করে ধেয়ে আসা তীব্র তাপদাহে দুর্ভোগে পড়েছেন কোটি কোটি মানুষ। বিশেষ করে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রা একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থাগুলোর মতে, ১৩ কোটি ৫ লাখেরও বেশি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা মোকাবেলা করছেন। ফ্রান্সের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা রেকর্ড ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। ফ্রান্সের চ্যাটিউমিল্যান্ট অঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় এবং রাজধানী প্যারিসে তা ৩৮ ডিগ্রি অতিক্রম করে। এছাড়া প্রায় ৩৪ কোটি মানুষের এলাকার তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে, যা ইউরোপের মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ।
গবেষকদের মতে, মানবসৃষ্ট কারণেই পরিবর্তনের কারণেই এখন এত ঘন ঘন এবং তীব্র তাপদাহের সৃষ্টি হচ্ছে। ভৌগোলিক বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উত্তপ্ত হতে থাকা মহাদেশ হলেও ইউরোপের অবকাঠামো এই অস্বাভাবিক গরম মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত নয়।
একদিকে তীব্র খরা, অন্যদিকে পরপর একাধিক তাপদাহে ইউরোপের বনগুলোতে ভয়াবহ লকলকে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। উত্তর গ্রীসে বনের অগ্নিকাণ্ড দুটি জনপ্রিয় রিসোর্টের দিকে ধেয়ে আসায় শত শত পর্যটককে নৌকাযোগে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যেও একই খরা পরিস্থিতির মধ্যে ঘরবাড়ি ধ্বংসকারী দাবানলের সাথে লড়াই করছে দমকল কর্মীরা।
যুক্তরাজ্য মেট অফিস জানিয়েছে, দেশটি ইতিহাসের সবচেয়ে গরম গ্রীষ্ম প্রত্যক্ষ করার দ্বারপ্রান্তে। সেখানে গতকাল অন্তত ৪০টি স্থানে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি বা তার বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। একইভাবে ইতালির পশ্চিম উপকূল, পো ভ্যালি এবং স্পেনের মধ্যাঞ্চলেও কোটি কোটি মানুষ এক অসহনীয় গরমের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা এই আবহাওয়া প্রকোপে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি প্রাণহানির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকার NNTV